চ্যাম্পিয়ন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

আদালতটা সাজানো। আইনজীবীরা পুরোদস্তুর ‘আইনজীবী’ নন। মামলার ঘটনা সত্য হতেও পারে, না-ও পারে, তবে বিচারক আসল। এই ছায়া আদালতের নাম ‘মুট কোর্ট’। এখানে যাঁরা আইনজীবী হয়ে লড়েন, তাঁরা আদতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এঁদের সংগঠন রয়েছে। নাম ‘মুট কোর্ট সোসাইটি’। এই সাজানো আদালতে প্রতিযোগীরা সাজানো মামলা লড়েন। সম্প্রতি এ রকম একটি প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট সোসাইটি ২০০৮ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। গত ৭ থেকে ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট সোসাইটি ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজন করে ‘অ্যান্টি করাপশন মুট কোর্ট কম্পিটিশন-২০১৭’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও মোট ১৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এতে অংশ নেয়।

একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনজন করে প্রতিযোগী নিয়ে গঠিত হয় একটি দল। তিনজনের মধ্যে দুজনকে বলা হয় মুটার বা বিতার্কিক ও একজন হচ্ছেন রিসার্চার বা গবেষক। সঙ্গে কোচ হিসেবে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। চ্যাম্পিয়ন দলে ছিলেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মানবাধিকার বিভাগের শিক্ষার্থী দ্রোহী ইসহাক, মাসরুর আব্দুল্লাহ ও আক্তারুজ্জামান। কোচ হিসেবে ছিলেন বিভাগের শিক্ষক ওয়াশিউর রহমান।

‘চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি পুরস্কারের প্রচলন আছে মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায়। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে ‘স্পিরিট অব দ্য মুট’ পুরস্কার জিতে নিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিযোগিতার শুরুতে দলের পক্ষ থেকে আদালতে লিখিত যুক্তিতর্ক (আরগুমেন্ট) জমা দিতে হয়। এতে যারা বেশি নম্বর পায়, তারা পায় ‘বেস্ট মেমোরিয়াল’ পুরস্কার। এই পুরস্কার গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের ঝুলিতে। বক্তব্য দেওয়ার সময় মুটারদের বক্তব্যের সমর্থনে আইনের বইপুস্তক ও আইনগত দলিলপত্র আদালতের কাছে উপস্থাপন করেন দলের গবেষক। গবেষক হিসেবে ‘বেস্ট রিসার্চার’ পুরস্কার পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের জাহিদ আল মামুন। আর সবচেয়ে ভালো বক্তা অর্থাৎ ‘বেস্ট মুটার’ হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্‌জনা হক।

তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন মো. রহমত উল্লাহ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি বোরহান উদ্দিন খান। বিচারপতি সৈয়দ মুহাম্মদ দস্তগীর হোসেনের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী, বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদ, ইফতেখারুজ্জামান ও বোরহান উদ্দিন খান।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুট কোর্ট সোসাইটির সভাপতি রহমত উল্লাহ বলেন, তাঁরা ২০০৮ সাল থেকে ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ে মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছেন। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‘অ্যাডভোকেসি স্কিল ডেভেলপমেন্ট’-এর সুযোগ পান।

বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও মানবাধিকার বিভাগের চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান বলেন, গত দুই বছর থেকে তাঁরা মুট কোর্ট সোসাইটি চালু করেছেন। এখান থেকে শিক্ষার্থীরা অ্যাডভোকেসি ও জুডিশিয়ারিতে দক্ষ হয়ে উঠবে, এই প্রত্যাশায় তাদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পাঠানো হয়। আশা ছিল তারা এবারের মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় ভালো করবেন। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবেন, এই প্রাপ্তিটা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ছিল।

Related posts

Leave a Comment