‘পুঁচকে’ ব্রিস্টলে ধরা ইউনাইটেড

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মুখোমুখি দ্বিতীয় বিভাগের ব্রিস্টল সিটি। ম্যাচের আগে হোসে মরিনহোর দল কত গোলে জিতবে, আলোচনা হচ্ছিল সেটি নিয়েই। হোক সে লিগ কাপের ম্যাচ, ইউনাইটেডের দ্বিতীয় একাদশই তো ব্রিস্টলের মূল একাদশের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী। কিন্তু মাঠের খেলায় মরিনহোকে রীতিমতো ফুটবল শিখিয়ে ছাড়ল ব্রিস্টল। ২-১ গোলে হেরে ইংলিশ ফুটবল লিগ কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

ম্যাচ শেষে যথারীতি ভাগ্যকে দুষেছেন মরিনহো। কিন্তু মাঠের খেলায় ব্রিস্টলকেই যোগ্যতর দল মনে হয়েছে। পল পগবা, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচদের দলটা ভীষণ ছন্নছাড়া ফুটবল খেলেছে। পুরো সময় ধরে খেললেও একেবারেই ফিট মনে হয়নি ইব্রাকে। পগবাকে তো ভাগ্যবানই মানতে হচ্ছে, হাঁটুর ওপরে পা তুলে সরাসরি ট্যাকল করেও কার্ড দেখার হাত থেকে বেঁচে গেছেন। প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে বাজে ট্যাকলিংয়ের দায়ে তিন ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এই ম্যাচে মাঠে ফিরেছিলেন কিছুদিন আগ পর্যন্তও ‘বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়’ পগবা।
মার্কাস রাশফোর্ডের জোরালো এক শট আর ইব্রাহিমোভিচের হেড ফিরে এসেছে পোস্টে লেগে। এর বাইরে বলার মতো আক্রমণ করতে পারেনি ইউনাইটেড। উল্টো ৫১ মিনিটে বাঁ প্রান্ত ধরে দারুণ এক আক্রমণে ব্রিস্টল সিটিকে এগিয়ে দিলেন লেফট ব্যাক জো ব্রায়ান। এরপরও কিন্তু সমতায় ফিরেছিল রেড ডেভিলরা। বক্সের বাইরে পগবাকে ফাউল করেছিলেন কোরি স্মিথ। ফ্রি-কিক থেকে ইউনাইটেডকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন ইব্রাহিমোভিচ। ম্যাচ জিততে মরিয়া মরিনহো এরপর রোমেলু লুকাকুকেও মাঠে নামিয়েছেন, কিন্তু গোল পাননি। অতিরিক্ত সময়ের খেলা যখন মিনিটখানেকের দূরত্বে, তখনই ইউনাইটেডের কফিনে শেষ পেরেকটা গেঁথে দেন স্মিথ। প্রতিপক্ষকে ফ্রিকিক উপহার দেওয়ায় নিশ্চয়ই ‘অপরাধবোধে’ ভুগছিলেন এই কোরি। সেটি থেকেই তো ম্যাচে ফিরেছিল ইউনাইটেড।
ম্যাচ শেষে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছেন ব্রিস্টল কোচ লি জনসন। অন্যদিকে দলের খেলোয়াড়দের ‘প্রচেষ্টার অভাবের’ কথা বলেছেন মরিনহো। কোনো কিছুই যেন পক্ষে যাচ্ছে না পর্তুগিজ কোচের। পেপ গার্দিওলার অবিশ্বাস্য ম্যানচেস্টার সিটি ১১ পয়েন্টের ব্যবধানে শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে গিয়েছে। নিকট অতীতে এতটা ব্যবধান দৌড়ে এসে শিরোপা জয়ের ইতিহাস নেই প্রিমিয়ার লিগে। লিগ কাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় এখন কেবল চ্যাম্পিয়নস লিগ ও এফএ কাপ নিয়েই আশাবাদী হতে পারেন মরিনহো।

Related posts

Leave a Comment