বাংলাদেশের শিব শংকরের মিউনিখ জয়

বাংলাদেশের শিব শংকর পাল ১৯৮৯ সালে জার্মানিতে গিয়েছিলেন ভাগ্যান্বেষণে। প্রথমেই ঠিক করেন চাকরি করবেন না, ব্যবসা করবেন। জার্মানিতে পুঁথিগত জ্ঞান ছাড়া কোনো ব্যবসা করা যায় না। সে জন্য শিব শংকর ভর্তি হলেন মিউনিখের কর্মজীবী বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে বৈদ্যুতিক ব্যবসায় ডিপ্লোমা করলেন। এরপর একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে ১৯৯৯ সালে মিউনিখে গড়ে তোলেন পাল ইলেকট্রো নামের এক বৈদ্যুতিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

জার্মানির ব্যাভেরিয়া রাজ্যের রাজধানী মিউনিখ শহরের ১৫ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৪ লাখই অভিবাসী। শহরের ব্যবসা-বাণিজ্য অবকাঠামো উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে অভিবাসীদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তারই স্বীকৃতি হিসেবে মিউনিখ পৌর কর্তৃপক্ষ ২০১০ সাল থেকে অভিবাসী উদ্যোক্তাদের পুরস্কৃত করে আসছে। সফল অভিবাসী উদ্যোক্তা হিসেবে এ বছর বাংলাদেশের শিব শংকর পাল পেয়েছেন ফিনিক্স পুরস্কার। শিব শংকরের পাশাপাশি ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস ও পোল্যান্ডের অভিবাসী আরও চারজন এ পুরস্কার পেয়েছেন। সেদিক থেকে শিব শংকর একমাত্র এশীয় হিসেবে এবার পুরস্কৃত হন।

ফিনিক্স পুরস্কার বিজয়ী প্রত্যেককে মিউনিখে শিল্পী আন্দ্রেয়াস ওহেনসচলের তৈরি ট্রফিসহ পাঁচ হাজার ইউরো ও সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়। ৬ ডিসেম্বর মিউনিখের সিটি হল মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অভিবাসী উদ্যোক্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ওই শহরের মেয়র জোসেফ স্মিড। অনুষ্ঠানে মেয়র অভিবাসী উদ্যোক্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁদের শ্রম ও অধ্যবসায়ের কারণেই মিউনিখ তথা জার্মানির অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শিব শংকর পালের ইলেকট্রা এখন ব্যাভেরিয়া রাজ্যের পাঁচটি পাঁচতারা হোটেল, বিভিন্ন বিদ্যালয়-হাসপাতাল ছাড়াও ১ হাজার ৬০০ বাস টার্মিনালে বৈদ্যুতিক ব্যবসার কাজ করে থাকে। বার্ষিক আয় প্রায় ২৫ লাখ ইউরো।

পুরস্কার পাওয়ার পর ৫২ বছর বয়সী ঢাকার নবাবগঞ্জের শিব শংকর পাল প্রথম আলোকে বলেন, পরিশ্রম আর প্রবাসে কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়ে একজন বাংলাদেশির এই পুরস্কার লাভ দেশের জন্যই গৌরবের। এতে অন্য উদ্যোক্তারাও উৎসাহিত হবেন।

শিব শংকর আরও বলেন, ‘তাঁর প্রতিষ্ঠান হাসপাতাল ও বিদ্যালয়গুলোতে কাজ করতে বেশি আগ্রহী। কারণ তাতে অনেক বেশি মানুষকে সেবা দেওয়া যায় এবং তার মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানটিরও যোগাযোগ হয়।

মিউনিখে সেরা উদ্যোক্তা হিসেবে পুরস্কৃত হওয়া শিব শংকর পাল একজন দৌড়বিদও। এ পর্যন্ত তিনি ৯২টি আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন।

Related posts

Leave a Comment