রাশিয়ান ফুটবলাররা ডোপ নিয়েছেন?

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ড্রেসিং রুম থেকে বেরোচ্ছেন ইলিয়া কুতেপভ। নাকে হাত দিয়ে তিনি কিছু একটা গ্রহণ করছিলেন। ছবি: বিল্ড

জার্মান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্পেন ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অ্যামোনিয়া গ্রহণ করেছিলেন রাশিয়ার খেলোয়াড়েরা। তবে ক্রীড়াঙ্গনে আন্তর্জাতিক ডোপিং-বিরোধী নীতিমালায় অ্যামোনিয়া নিষিদ্ধ নয়

রাশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে ডোপিং নতুন কিছু নয়। সর্বশেষ রিও অলিম্পিকে তো এ নিয়ে তুলকালাম কাণ্ডই ঘটে গেছে। এবারের বিশ্বকাপেও স্বাগতিকদের বিপক্ষে ডোপিংয়ের অভিযোগ তুলেছে জার্মান সংবাদমাধ্যম। এই অভিযোগ অস্বীকার করেনি রাশিয়াও। তারা বলছে, সামান্য অ্যামোনিয়া গ্রহণ করেই খেলতে নেমেছিলেন তাদের এক খেলোয়াড়। ডোপবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা নিষিদ্ধ মাদকের যে একটা তালিকা করেছে, তাতে নাকি অ্যামোনিয়া নেই। শেষ ষোলোয় স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে নাকের ভেতর দিয়ে অ্যামোনিয়া গ্রহণ করেছিলেন রাশিয়ার এক খেলোয়াড়।

Pran upতবে অ্যামোনিয়া খেলোয়াড়দের শারীরিক সামর্থ্য বাড়াতে সহায়তা করে। শ্বাস-প্রশ্বাসকে উদ্দীপ্ত করার সঙ্গে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রাও বাড়ায়। মিউনিখের সংবাদমাধ্যম ‘সুডেশে জেইতাং’ তাদের প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছে, ‘রাশিয়ান ফেডারেশনের কাছে ব্যাপারটা এত হালকা, যেন গোসল করার সময় কেউ শ্যাম্পু ব্যবহার করছে।’

স্পেনের বিপক্ষে সেই ম্যাচে রাশিয়ার বেঞ্চের এক খেলোয়াড় মাঠে নামার আগে তুলার বলের মধ্যে রাখা অ্যামোনিয়া নাক দিয়ে টেনে গ্রহণ করেন। শেষ আটে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও রাশিয়ান খেলোয়াড়দের বিপক্ষে একই অভিযোগ তোলে জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘বিল্ড’। বিরতি শেষে রাশিয়ার খেলোয়াড়দের নাক টেনে কিছু একটা গ্রহণের ছবি পেয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। তারা মনে করছে, রাশিয়ান খেলোয়াড়েরা তখন অ্যামোনিয়া গ্রহণ করছিলেন।

তবে রাশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন অ্যামোনিয়া গ্রহণের কথা স্বীকার করলেও ডোপিংয়ের কথা অস্বীকার করেছে। দেশটির জাতীয় দলের চিকিৎসক এদুয়ার্দ বেজুগ্লোভ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এটা সামান্য অ্যামোনিয়া যা তুলার বলের মাধ্যমে নাক দিয়ে টেনে গ্রহণ করা হয়েছে। নিজেদের উদ্দীপ্ত রাখতে এটা হাজারো অ্যাথলেট ব্যবহার করে থাকেন। কয়েক দশক ধরেই এটা ব্যবহার করা হচ্ছে।’

শেষ ষোলোয় স্পেনের বিপক্ষে জিতলেও কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয় রাশিয়া। দেশটির ফুটবলারদের বিপক্ষে ডোপিংয়ের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। ২০১৬ সালে ফিফার তদন্তে রাশিয়ার ১১ জন খেলোয়াড়ের বিপক্ষে ডোপিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল।

Related posts

Leave a Comment