সিলেটের কিশোর গ‍্যাং অন্তর বাহিনী বেপরোয়া ছিনতাই সহ ভয়ংকর অপরাধে জড়িত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক :: উপশহরে ভয়ংকর নারীর গুন্ডা ছেলে অন্তর। বয়স সবে মাত্র ১৯। এখনো কিশোর। তার মায়ের ইচ্ছে সে হবে সিলেটের সবচেয়ে আলোচিত গুন্ডা (সন্ত্রাসী)। এমনটাই উপশহর এলাকার এইচ ব্লকের বিভিন্ন দোকান ও চায়ের টংয়ে বলে বেড়ায় অন্তর! মায়ের আসকারায় কিশোর অন্তর আজ সত্যিই বনে যাচ্ছে কিশোর অপরাধী। তার বয়েসি কিশোরদের নিয়ে তৈরী করেছে কিশোর গ্যাং। নামও দিয়েছে অন্তর গ্রুপ। অপরাধসহ নানান অপকর্ম জড়িয়ে যাচ্ছে। শনিবার রাতে তার দলবল নিয়ে এক ব্যাটারি চালিত রিকশা চালক বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়! রিকশা চালকের রোজগারের টাকা নেবার জন্য পকেটে থাকা ছুরি দিয়ে চোখে আঘাত করে। অল্পের জন্য রিকশা চালকের চোখটি রক্ষা পেলেও হাসপাতালে চারটি সেলাই লেগেছে।

বলছি, সিলেটের আলোচিত পকেটমার ও ছিনতাই জগতের ভয়ংকর পপির ছেলে অন্তরের কথা। তার বাবার নাম আউয়াল মিয়া। উপশহরের এইচ ব্লক বসবাস করে। যে সময়ে বই বন্ধু হবার কথা, মায়ের প্রশ্রয়ে আজ বন্ধু হয়েছে ছুরি। মায়ের মতো এখন সেও অপরাধ জগতে নামতে শুরু করেছে। অভিযোগ উঠেছে পপির সাথে সখ্যতার কারণে এলাকার প্রভাবশালীরা এই কিশোর ও তার দলবলকে শেল্টার দিচ্ছেন। মিছিল মিটিংয়েও সে ও তার দল সক্রিয়। তবে শনিবার রাতের ঘটনার পর কেউই অন্তরকে ঠাই দিচ্ছেন না।

জানা গেছে, শনিবার রাত ১০টার দিকে নগরীর উপশহর এলাকার স্প্রিং টাওয়ারের সামনে ব্যাটারি চালিত রিকশা চালক রনি (২২)-কে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করে অন্তর ও তার দলবল। এই সময়ে অন্তরের সাথে ছিলো সুমন, নুরু, জাবেদ, মন্ডলসহ প্রায় ১৫ কিশোর। রনির উপার্জিত টাকা নেয়ার এক পর্যায়ে সে তার পকেট থেকে ছুরি বের করে ছুরি দিয়ে আঘাত করে তার ডান চোখে। টাকা, মোবাইল ফোন নেবার পরে রক্তাক্ত অবস্থায় সেখানে ফেলে অন্তররা পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা রিকশা চালক রনিকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়! এসএমপির শাহপরাণ (র) থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

রনি উপশহরের সৈয়দানীবাদের আরজু মিয়ার কলোনীর নুরুল আমিনের ছেলে। বর্তমানে সে সিলেট ওসমানী হাসপাতালের ৩ তলার ১১নং ওয়ার্ডের ১নং বেডে চিকিৎসাধীন।

আহত রনির বোন শিমা বেগম বলেন, উপশহরে ভয়ংকর নারীর গুন্ডা ছেলে অন্তর। সে সিলেটের সবচেয়ে আলোচিত গুন্ডা (সন্ত্রাসী) হবে। উপশহর এলাকার এইচ ব্লকের বিভিন্ন দোকান ও চায়ের টংয়ে এসব কথা বলে বেড়ায়। অল্পের জন্য আমার ভাইয়ের বাম চোখটি রক্ষা পেয়েছে। এরপরেও চোখের উপরে ৪টি সেলাই লেগেছে। রবিবার দুপুরে অন্তরসহ ক’জন আমাদের বাসায় এসে হুমকি দিয়েছে আমরা যেনো মামলা না করি। আমরা বিষয়টি নিয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

শাহপরান(র:) মডেল থানার উপশহর পুলিশ ফাড়িঁর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অপরাধীদের আটকে অভিযান চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন শাহপরান (র:) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আনিসুর রহমান।

Related posts

Leave a Comment